ছোটবেলা ভাবতাম কাউকে ফুল দিলেই তার সাথে প্রেম হয়ে যাবে। তাই কোন ছেলেকে ভুলেও ফুল দিতাম না।
কাউকে সরাসরি " আই লাভ ইউ " বলা অনেক সাহসের কাজ। অতিরিক্ত সাহসী না হলে এই কথা বলা যায় না।
তারপর আরেকটু বড় হওয়ার পর কেউ যদি বলতো " তুমি অনেক সুন্দর " সরাসরি লজ্জা পেয়ে বলতাম "মোটেই না।"
কেউ যদি বলতো " তোমাকে ভালো লাগে। " ভয়ে গলা শুকিয়ে যেতো, হাত - পা কাঁপতো; ভাবতাম এখন যদি সে বলে আমাকে ভালোবাসে তাহলে কী উত্তর দিবো!
কেউ যদি বলতো " তোমাকে ভালোবাসি " বুকের ভেতর অদ্ভুত শিহরণ জাগতো। অসাধারণ ছিলো সেই অদ্ভুত শিহরণ।
বাহ্যিকভাবে ভয় পেলেও মনে অনেক আনন্দ হতো। ভাবতাম কেউ আমাকে পছন্দ করে, কেউ ভালোবাসে! আরো কত কী!
তখন ফ্লার্ট শব্দটার সাথে পরিচয় ছিলো না। ভালোবাসার মতো সুন্দর একটি অনুভূতি নিয়ে কেউ মিথ্যা বলবে কল্পনাও করতে পারতাম না।
ভালো লাগার মতো স্বচ্ছ অনুভূতি নিয়ে কেউ প্রতারণা করবে দুঃস্বপ্নেও ভাবতাম না।
মানুষকে মানুষ হিসেবেই চিনতাম, মানুষই ভাবতাম। মানুষের বহু রূপ সেটা জানতাম না।
তারপর আরো সময় পার হলো। জীবন অনেককিছু শেখালো।
এখন আমি সবাইকে বিশ্বাস করি, আবার কাউকেই বিশ্বাস করি না৷ টুকটাক মানুষের সাইকোলজি রিড করতে পারি।
কে ভালোবেসে কাছে আসতে চায় আর কে কামের বাসনায় কাছে আসতে চায় সবই মোটামুটি বুঝি।
কে ফ্লার্ট করে আর কে মিন করে সেটাও কমবেশি বুঝি।
এই অতিরিক্ত ম্যাচুরিটির কারণে জীবন থেকে মুগ্ধতা হারিয়ে গেছে।
আজকাল কেউ যদি বলে " আপনাকে ভালো লাগে। " মুচকি হেসে ধন্যবাদ দেই। কিন্তু এই অনুভূতি মনের ভেতর উথাল-পাতাল ঢেউ তুলে না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবারো দেখি না।
কেউ যদি বলে " আপনাকে ভালোবাসি" হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাই। এই অনুভূতি হাতে পায়ে কাঁপন ধরায় না। বুকের ভেতর শিহরণ জাগে না৷
Prrbook
কেউ যদি বলে " আপনি সুন্দর " তখন তাকে বলি আরেকটু এডভান্স ফ্লার্ট করেন। এটা বাচ্চাদের ফ্লার্ট হয়ে গেলো।
ম্যাচুরিটির সবথেকে খারাপ দিক হলো জীবন থেকে মুগ্ধতা হারিয়ে যায়৷ এবং বড়সড় ধাক্কা না খেলে জীবনে ম্যাচুরিটি আসে না৷
যে কারণে বা যার কারণে আমরা এই বড়সড় ধাক্কাটা খাই তিনি জানলেনই না; আমাদের জীবন থেকে তিনি একা যাননি। যাওয়ার সাথে আমাদের সকল সরলতা, অনুভূতি এবং মুগ্ধতা নিয়ে গেছেন৷
আমাদের এককালের সবথেকে কাছের মানুষটাই হয়তো নিজের অজান্তে কিংবা জেনেবুঝে আমাদের জীবনের সবথেকে বড় ক্ষতিটা করেন।
শান্তি! শান্তি! শান্তি!
লেখা ঃ ফারজানা আক্তার